বস্তা ও জায়গা সংকটে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি বন্ধ

  • Update Time : ০৪:৩১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View
আল মোজাহিদ বাবু ,বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
খাদ্য অধিদফতর কর্তৃক সরবরাহ করা পাটের বস্তা সংকটে  জামালপুরের বকশীগঞ্জে বন্ধ রয়েছে বোরো মৌসুমের সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক কেটে গেলেও সংগ্রহ অর্জন এখনও পর্যন্ত এক চতুর্থাংশ। ফলে, সরকারি মূল্যে ধান দিতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়া কৃষকদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে  বোরো ৩৬ টাকা কেজি দরে ১২ শত ৯৭ মেট্রিক টন  ধান,  ৪৯ টাকা কেজিতে ৮ শ ২৫  মেট্রিক টন সিদ্ধ  চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।    এরমধ্যে  ২১ জুলাই পর্যন্ত চালের লক্ষ্যমাত্রা ৮ শত মেট্রিক টন সংগ্রহ হলেও ২৫ টন    বাকি রয়েছে।  অন্যদিকে, ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৪ শ  মেট্রিকটন। এ হিসেবে ধানের সংগ্রহ এক চতুর্থাংশ । এখনও বাকি রয়েছে ৮ শ ৯৭ মেট্রিকটন ধান।
গত ১৮ মে থেকে শুরু হওয়া ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে আগামী ৩১ আগষ্ট।
তবে শুরু থেকেই উপজেলা খাদ্য গুদামগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে ধীরগতি দেখা দেয় সংগ্রহ অভিযানে। খাদ্য গুদামের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ১ হাজার মেট্রিক টন হলেও মজুত আছে ১৩ শত ৪৫ টন ধান-চাল।
তবে, মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১ শ ২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে, সরকারের কাছে ধান বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জুলাইয়ের ২১ তারিখ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে উপজেলায় মোট ধানের লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশ সরকারি সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে সৃষ্টি হয় বস্তার সংকট। ফলে কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে এলেও, বস্তা না থাকায় ফিরে যেতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান,  সরাসরি গুদামে ধান নিয়ে এসে জানতে পারেন বস্তা নেই। ফলে, ওই ধান আবার ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। আবার, অনেকেই গুদামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বর্তমানে বস্তা ও যায়গা নেই। ফলে, তারা ধান আনতেই পারেননি। বস্তার সংকটের এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা জোড়ে কৃষকদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইদুর রহমান  জানান, শুধু বকশীগঞ্জেই নয়, পুরো দেশেই বস্তার সংকট চলছে। মূলত খাদ্য  গুদামের যায়গা ও বস্তা  সংকটের কারনে এই সমস্যা  তৈরি হয়েছে।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে আরো বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। অতিদ্রুত এ সংকট কেটে যাবে। যেহেতু সরকারিভাবে সংগ্রহের সময়সীমা আরও  মাস খানেক বাকি রয়েছে, কাজেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।’
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঢাকা কম্পাসের শুভ উদ্বোধন: সত্য, নিরপেক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত

বস্তা ও জায়গা সংকটে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি বন্ধ

Update Time : ০৪:৩১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
আল মোজাহিদ বাবু ,বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
খাদ্য অধিদফতর কর্তৃক সরবরাহ করা পাটের বস্তা সংকটে  জামালপুরের বকশীগঞ্জে বন্ধ রয়েছে বোরো মৌসুমের সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক কেটে গেলেও সংগ্রহ অর্জন এখনও পর্যন্ত এক চতুর্থাংশ। ফলে, সরকারি মূল্যে ধান দিতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়া কৃষকদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে  বোরো ৩৬ টাকা কেজি দরে ১২ শত ৯৭ মেট্রিক টন  ধান,  ৪৯ টাকা কেজিতে ৮ শ ২৫  মেট্রিক টন সিদ্ধ  চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।    এরমধ্যে  ২১ জুলাই পর্যন্ত চালের লক্ষ্যমাত্রা ৮ শত মেট্রিক টন সংগ্রহ হলেও ২৫ টন    বাকি রয়েছে।  অন্যদিকে, ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৪ শ  মেট্রিকটন। এ হিসেবে ধানের সংগ্রহ এক চতুর্থাংশ । এখনও বাকি রয়েছে ৮ শ ৯৭ মেট্রিকটন ধান।
গত ১৮ মে থেকে শুরু হওয়া ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে আগামী ৩১ আগষ্ট।
তবে শুরু থেকেই উপজেলা খাদ্য গুদামগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে ধীরগতি দেখা দেয় সংগ্রহ অভিযানে। খাদ্য গুদামের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ১ হাজার মেট্রিক টন হলেও মজুত আছে ১৩ শত ৪৫ টন ধান-চাল।
তবে, মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১ শ ২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে, সরকারের কাছে ধান বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জুলাইয়ের ২১ তারিখ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে উপজেলায় মোট ধানের লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশ সরকারি সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে সৃষ্টি হয় বস্তার সংকট। ফলে কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে এলেও, বস্তা না থাকায় ফিরে যেতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান,  সরাসরি গুদামে ধান নিয়ে এসে জানতে পারেন বস্তা নেই। ফলে, ওই ধান আবার ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। আবার, অনেকেই গুদামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বর্তমানে বস্তা ও যায়গা নেই। ফলে, তারা ধান আনতেই পারেননি। বস্তার সংকটের এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা জোড়ে কৃষকদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইদুর রহমান  জানান, শুধু বকশীগঞ্জেই নয়, পুরো দেশেই বস্তার সংকট চলছে। মূলত খাদ্য  গুদামের যায়গা ও বস্তা  সংকটের কারনে এই সমস্যা  তৈরি হয়েছে।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে আরো বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। অতিদ্রুত এ সংকট কেটে যাবে। যেহেতু সরকারিভাবে সংগ্রহের সময়সীমা আরও  মাস খানেক বাকি রয়েছে, কাজেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।’