সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানায়, কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে স্পিকার পদে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনবোধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া থাকে। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের মধ্যেও উল্লেখ থাকে যে, স্পিকারের পদ খালি হলে তিনি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশার অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবিধান ও দেশের প্রচলিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশে রাষ্ট্রপতির পদ কখনোই শূন্য থাকে না এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সার্বিক দায়িত্ব রূপান্তর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বিরূপ মনোভাব তৈরির সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।













