ঈদের পরও বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে মাছ-মাংস

  • Dhaka Compass Dhaka Compass
  • Update Time : ০৯:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ Time View

ঈদের পরও বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে মাছ-মাংস

ঈদের আমেজ শেষ হলেও রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বরং অধিকাংশ পণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও রায়েরবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

মাংসের বাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৯৫ টাকায় এলেও তা এখনও স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সোনালি মুরগি কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩৪০ টাকা, যা অনেকের নাগালের বাইরে।

মাছের দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০–৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের সময় বাড়া দাম এখনো কমেনি। এক ক্রেতা বলেন, “ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এখনও তা বেশি। সোনালি মুরগি তো এখন প্রায় বিলাসী পণ্য।” আরেকজন জানান, “ঈদের পর দাম কমবে—এমন আশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবর্তন নেই।”

ব্যবসায়ীদের মতে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের চাপ কমছে না। ফলে শিগগিরই স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনাও কম।

অন্যদিকে কাঁচাবাজারেও নেই স্বস্তি। ঈদের আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ ১২০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা, মরিচ ১০০–১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকা, উচ্ছে ও বরবটি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০ টাকা এবং টমেটো ৭০–৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ৫০–৭০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া ৬০–৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা এবং গাজর ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদ-পরবর্তী সময়েও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি না ফেরায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Dhaka Compass

Dhaka Compass

ঢাকা কম্পাসের শুভ উদ্বোধন: সত্য, নিরপেক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত

ঈদের পরও বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে মাছ-মাংস

Update Time : ০৯:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের আমেজ শেষ হলেও রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বরং অধিকাংশ পণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও রায়েরবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

মাংসের বাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৯৫ টাকায় এলেও তা এখনও স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সোনালি মুরগি কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩৪০ টাকা, যা অনেকের নাগালের বাইরে।

মাছের দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০–৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের সময় বাড়া দাম এখনো কমেনি। এক ক্রেতা বলেন, “ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এখনও তা বেশি। সোনালি মুরগি তো এখন প্রায় বিলাসী পণ্য।” আরেকজন জানান, “ঈদের পর দাম কমবে—এমন আশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবর্তন নেই।”

ব্যবসায়ীদের মতে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের চাপ কমছে না। ফলে শিগগিরই স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনাও কম।

অন্যদিকে কাঁচাবাজারেও নেই স্বস্তি। ঈদের আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ ১২০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা, মরিচ ১০০–১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকা, উচ্ছে ও বরবটি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০ টাকা এবং টমেটো ৭০–৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ৫০–৭০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া ৬০–৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা এবং গাজর ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদ-পরবর্তী সময়েও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি না ফেরায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।