ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ছয় দশকের স্মৃতিচারণ করলেন ফরিদা জালাল

  • Update Time : ০৮:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১ Time View

কখনও তিনি আঁচলের ছায়ায় আগলে রাখা মমতাময়ী মা, কখনও স্নেহের আতিশয্যে ভরা বড় বোন, আবার কখনও রূপালী পর্দার সেই চিরচেনা দুষ্টু-মিষ্টি দাদিমা। বলিউডের দীর্ঘ ছয় দশকের পথচলায় সহস্রাধিক চরিত্রে মিশে গিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অবিচ্ছেদ্য প্রাণভোমরা। তিনি আর কেউ নন, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফরিদা জালাল। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের খতিয়ান টানতে গিয়ে এই প্রবীণ অভিনেত্রী জানালেন এক অমোঘ সত্য, তার কাছে গ্ল্যামারের চাকচিক্য কিংবা সাফল্যের মোহ নয়, বরং দর্শকদের থেকে পাওয়া অকৃত্রিম সম্মানই জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ফরিদা জালাল বলেন, ‘আমি সবসময় একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সীমানা অতিক্রম না করেও আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি, দর্শক আমাকে ভালোবাসা দিচ্ছেন। তাহলে কি আমাকে সফল বলা যায় না?’

টাকা উপার্জনের চেয়ে নীতি ও সম্মানের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আসলে ভালো বা খারাপ সব পথেই টাকা উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু সম্মান এবং মর্যাদা সহজে পাওয়া যায় না। এর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।’

নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দুই নির্মাতা করণ জোহর ও আদিত্য চোপড়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফরিদা। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তার ক্যারিয়ারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আদিত্য চোপড়া অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং করণ জোহর আমার ছেলের মতো। আমি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সেসব কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও এখন আমি মাঝেমধ্যে অভিযোগ করি যে, আমাকে আরও বেশি কাজ দেওয়া হয় না কেন।’

ফরিদা জালালের ভাষ্যমতে, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমাগুলো দর্শকের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে। সিনেমার পাশাপাশি ‘দেখ ভাই দেখ’ বা ‘শরারাত’-এর মতো টেলিভিশন সিরিয়াল এবং সবশেষ ‘হীরামন্ডি’ ওয়েব সিরিজেও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখে বুঝিয়ে দিয়েছেন চরিত্র ছোট হলেও অভিনয় দিয়ে আকাশছোঁয়া মর্যাদা অর্জন করা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঢাকা কম্পাসের শুভ উদ্বোধন: সত্য, নিরপেক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত

ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ছয় দশকের স্মৃতিচারণ করলেন ফরিদা জালাল

Update Time : ০৮:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কখনও তিনি আঁচলের ছায়ায় আগলে রাখা মমতাময়ী মা, কখনও স্নেহের আতিশয্যে ভরা বড় বোন, আবার কখনও রূপালী পর্দার সেই চিরচেনা দুষ্টু-মিষ্টি দাদিমা। বলিউডের দীর্ঘ ছয় দশকের পথচলায় সহস্রাধিক চরিত্রে মিশে গিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অবিচ্ছেদ্য প্রাণভোমরা। তিনি আর কেউ নন, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফরিদা জালাল। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের খতিয়ান টানতে গিয়ে এই প্রবীণ অভিনেত্রী জানালেন এক অমোঘ সত্য, তার কাছে গ্ল্যামারের চাকচিক্য কিংবা সাফল্যের মোহ নয়, বরং দর্শকদের থেকে পাওয়া অকৃত্রিম সম্মানই জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ফরিদা জালাল বলেন, ‘আমি সবসময় একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সীমানা অতিক্রম না করেও আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি, দর্শক আমাকে ভালোবাসা দিচ্ছেন। তাহলে কি আমাকে সফল বলা যায় না?’

টাকা উপার্জনের চেয়ে নীতি ও সম্মানের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আসলে ভালো বা খারাপ সব পথেই টাকা উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু সম্মান এবং মর্যাদা সহজে পাওয়া যায় না। এর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।’

নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দুই নির্মাতা করণ জোহর ও আদিত্য চোপড়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফরিদা। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তার ক্যারিয়ারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আদিত্য চোপড়া অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং করণ জোহর আমার ছেলের মতো। আমি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সেসব কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও এখন আমি মাঝেমধ্যে অভিযোগ করি যে, আমাকে আরও বেশি কাজ দেওয়া হয় না কেন।’

ফরিদা জালালের ভাষ্যমতে, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমাগুলো দর্শকের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে। সিনেমার পাশাপাশি ‘দেখ ভাই দেখ’ বা ‘শরারাত’-এর মতো টেলিভিশন সিরিয়াল এবং সবশেষ ‘হীরামন্ডি’ ওয়েব সিরিজেও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখে বুঝিয়ে দিয়েছেন চরিত্র ছোট হলেও অভিনয় দিয়ে আকাশছোঁয়া মর্যাদা অর্জন করা সম্ভব।