প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

  • Update Time : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৭ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।  সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ-আইএলও সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পাশাপাশি স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্যের জন্যও তিনি বর্তমান সরকারের প্রশংসা করেন।
আলোচনায় শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তরের মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঢাকা কম্পাসের শুভ উদ্বোধন: সত্য, নিরপেক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

Update Time : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।  সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ-আইএলও সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পাশাপাশি স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্যের জন্যও তিনি বর্তমান সরকারের প্রশংসা করেন।
আলোচনায় শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তরের মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে উপস্থিত ছিলেন।